ইলেকট্রিক্যাল টেকনোলজি
ইলেকট্রিক্যাল — টেকনোলজি বিভাগ
পরিচিতি
৪ বছর মেয়াদী ডিপ্লোমা ইন ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং হলো বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড (BTEB) এর অধীনে পরিচালিত অন্যতম প্রধান, শক্তিশালী এবং চিরসবুজ (Evergreen) একটি টেকনিক্যাল কোর্স। আধুনিক সভ্যতার চালিকাশক্তি হলো বিদ্যুৎ, আর এই বিদ্যুৎ উৎপাদন, সঞ্চালন, বিতরণ এবং এর সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করার মূল দায়িত্ব পালন করেন ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়াররা। একেও ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের অন্যতম "মাদার ব্রাঞ্চ" বলা হয়। বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড (BTEB) এর অধীনে ইলেকট্রিক্যাল টেকনোলজি (ET) হলো ৪ বছর (মোট ৮টি সেমিস্টার) মেয়াদী ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্স। সাধারণত এসএসসি (SSC) বা সমমানের পরীক্ষায় যেকোনো গ্রুপ থেকে ন্যূনতম জিপিএ (GPA) ২.00 পেয়ে উত্তীর্ণ হয়ে এই কোর্সে ভর্তি হওয়া যায়। এই কোর্সে শিক্ষার্থীদের বিদ্যুতের প্রাথমিক তত্ত্ব থেকে শুরু করে আধুনিক পাওয়ার প্ল্যান্ট এবং ইন্ডাস্ট্রিয়াল অটোমেশন সম্পর্কে বিস্তারিত এবং ব্যবহারিক জ্ঞান দেওয়া হয়। • ১ম থেকে ৩য় সেমিস্টার (ফাউন্ডেশন): এই সময়ে বেসিক সায়েন্স (ফিজিক্স, কেমিস্ট্রি, ম্যাথ) এবং ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের প্রাথমিক বিষয় যেমন: Electrical Circuits (AC/DC), Electrical Appliances এবং Engineering Drawing শেখানো হয়। • ৪র্থ থেকে ৭ম সেমিস্টার (কোর সাবজেক্ট): এই সময়ে মূলত অ্যাডভান্সড ইলেকট্রিক্যাল এবং পাওয়ার সিস্টেমের বিষয়গুলো শেখানো হয়। যেমন: o Electrical Machines: ট্রান্সফরমার, ডিসি/এসি মোটর এবং জেনারেটরের গঠন ও কার্যপ্রণালী। o Power System (Generation, Transmission & Distribution): বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র, গ্রিড লাইন এবং বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা। o Switchgear & Protection: বৈদ্যুতিক লাইনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা, সার্কিট ব্রেকার, রিলে এবং সাব-স্টেশন ডিজাইন। o Industrial Automation & PLC: পিএলসি (Programmable Logic Controller) এর মাধ্যমে কলকারখানার স্বয়ংক্রিয় নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা। o Power Electronics: বিদ্যুৎ শক্তি রূপান্তর ও নিয়ন্ত্রণের আধুনিক সেমিকন্ডাক্টর ডিভাইস। • ৮ম সেমিস্টার (ইন্ডাস্ট্রিয়াল ট্রেনিং): বাস্তব কর্মক্ষেত্রের অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য শিক্ষার্থীরা ৩ থেকে ৪ মাসের জন্য কোনো পাওয়ার প্ল্যান্ট, সাব-স্টেশন বা বড় শিল্পকারখানায় ইন্টার্নশিপ বা প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে। ইলেকট্রিক্যাল টেকনোলজির মূল ভিত্তিই হলো ল্যাব। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার সাথে কাজ শেখানোর জন্য বিভিন্ন আধুনিক ল্যাবরেটরি রয়েছে: • ওয়ারিং শপ (Wiring Shop): বাসা-বাড়ি এবং কলকারখানার বৈদ্যুতিক লাইনের নিরাপদ লে-আউট ও কানেকশন। • মেশিন ল্যাব (Machine Lab): মোটর, জেনারেটর চালানো এবং ট্রান্সফরমারের কার্যক্ষমতা পরীক্ষা করা। • পাওয়ার সিস্টেম ও সাব-স্টেশন ল্যাব: হাই-ভোল্টেজ লাইনের সুইচগিয়ার, প্রটেকশন রিলে এবং ট্রান্সফরমার সাব-স্টেশন অপারেশন। • পিএলসি ও অটোমেশন ল্যাব (PLC Lab): বর্তমান যুগের আধুনিক ফ্যাক্টরির স্বয়ংক্রিয় মেশিন কন্ট্রোলিং সিস্টেমের কোডিং ও সেটআপ। বিদ্যুৎ ছাড়া বর্তমান পৃথিবী অচল, তাই ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারদের চাকুরির ক্ষেত্র সরকারি ও বেসরকারি উভয় সেক্টরেই অত্যন্ত বিশাল। ডিপ্লোমা শেষে সাধারণত উপ-সহকারী প্রকৌশলী (Sub-Assistant Engineer) হিসেবে যোগ দেওয়া যায়। প্রধান কাজের ক্ষেত্রসমূহ: • সরকারি বিদ্যুৎ সেক্টর: পিডিবি (PDB), ডেসকো (DESCO), ডিপিডিসি (DPDC), ডব্লিউজেডपिডিসি (WZPDCL), নেসকো (NESCO), পিজিসিবি (PGCB), ইজিসিবি (EGCB), আরইবি (REB / পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি) এবং বিপিডিবি (BPDB)। • অন্যান্য সরকারি সেক্টর: বাংলাদেশ রেলওয়ে, ওয়াসা (WASA), এলজিইডি (LGED), পিডব্লিউডি (PWD), বিভিন্ন সরকারি ব্যাংক ও মন্ত্রণালয়। • বেসরকারি ও শিল্প কারখানা: দেশের যেকোনো বড় ডাইং, টেক্সটাইল, সিমেন্ট ফ্যাক্টরি, স্টিল মিল, ও ফার্মাসিউটিক্যালস কোম্পানিতে সাব-স্টেশন বা মেইনটেইন্যান্স ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে। • রিয়েল এস্টেট ও কনস্ট্রাকশন: বহুতল ভবনের বৈদ্যুতিক ডিজাইন, লিফ্ট ও সাব-স্টেশন স্থাপন এবং সুপারভিশন। • উদ্যোক্তা বা ব্যবসা: জেনারেটর, ট্রান্সফরমার, আইপিএস (IPS) এবং হাউজ ওয়ারিং সাপ্লাইয়ের ব্যবসা বা সার্ভিসিং সেন্টার খোলার দারুণ সুযোগ থাকে। ডিপ্লোমা ইন ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং শেষ করার পর বিএসসি (B.Sc) ডিগ্রি অর্জনের ব্যাপক সুযোগ রয়েছে: • DUET (ডুয়েট): ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (DUET) থেকে সরাসরি বিএসসি ইন ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (EEE) করা যায়। এটি ডিপ্লোমা শিক্ষার্থীদের জন্য শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠান। • অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়: IEB অনুমোদিত দেশের যেকোনো সরকারি বা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিপ্লোমা হোল্ডারদের জন্য বিশেষ ছাড়ে (ক্রেডিট ট্রান্সফার) ৩ থেকে ৩.৫ বছরে B.Sc in EEE সম্পন্ন করা যায়।