সিভিল টেকনোলজি
সিভিল — টেকনোলজি বিভাগ
পরিচিতি
৪ বছর মেয়াদী ডিপ্লোমা ইন সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং হলো বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড (BTEB) এর অধীনে পরিচালিত সবচেয়ে প্রাচীন, জনপ্রিয় এবং ডিমান্ডিং একটি টেকনিক্যাল কোর্স। আবাসন, রাস্তাঘাট, সেতু, কালভার্ট এবং বড় বড় অবকাঠামো নির্মাণের মূল কারিগর হলেন সিভিল ইঞ্জিনিয়াররা। একে ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের "মাদার ব্রাঞ্চ"-ও বলা হয়ে থাকে। বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড (BTEB) এর অধীনে সিভিল টেকনোলজি (CT) হলো ৪ বছর (মোট ৮টি সেমিস্টার) মেয়াদী ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্স। সাধারণত এসএসসি (SSC) বা সমমানের পরীক্ষায় যেকোনো গ্রুপ থেকে ন্যূনতম জিপিএ (GPA) ২.00 পেয়ে উত্তীর্ণ হয়ে এই কোর্সে ভর্তি হওয়া যায়। এই কোর্সে তাত্ত্বিক ক্লাসের পাশাপাশি প্রজেক্ট ডিজাইন ও ফিল্ডওয়ার্ক বা মাঠপর্যায়ের কাজের ওপর অনেক বেশি জোর দেওয়া হয়। • ১ম থেকে ৩য় সেমিস্টার (ফাউন্ডেশন): এই সময়ে বেসিক সায়েন্স (ফিজিক্স, কেমিস্ট্রি, ম্যাথ) এবং সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের প্রাথমিক বিষয় যেমন: Civil Engineering Materials (ইট, বালু, সিমেন্ট, রড ইত্যাদির পরিচিতি), Engineering Drawing এবং Basic Surveying শেখানো হয়। • ৪র্থ থেকে ৭ম সেমিস্টার (কোর সাবজেক্ট): এই সময়ে মূল ও অ্যাডভান্সড সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের বিষয়গুলো শেখানো হয়। যেমন: o Surveying (জরিপ বিজ্ঞান): জমি ও দূরত্বের সঠিক পরিমাপ পদ্ধতি। o Estimating & Costing: যেকোনো নির্মাণ কাজের খরচ এবং কাঁচামালের হিসাব বের করা। o Theory of Structures & RCC Design: রড এবং কনক্রিটের সঠিক অনুপাত এবং ভবনের লোড বা ওজন বহন ক্ষমতা ডিজাইন করা। o Transportation & Geotechnical Engineering: রাস্তাঘাট, হাইওয়ে তৈরি এবং মাটির গুণাগুণ পরীক্ষা (Soil Test) পদ্ধতি। o Hydraulics & Environmental Engineering: পানি সরবরাহ, পয়ঃনিষ্কাশন ও বাঁধ নির্মাণ সংক্রান্ত বিষয়। o Computer Aided Design (CAD): অটোক্যাড সফটওয়্যারের মাধ্যমে ভবনের ২ডি ও ৩ডি ডিজিটাল নকশা করা। • ৮ম সেমিস্টার (ইন্ডাস্ট্রিয়াল ট্রেনিং): বাস্তব কাজের অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য শিক্ষার্থীরা ৩ থেকে ৬ মাসের জন্য কোনো রিয়েল এস্টেট কোম্পানি, সরকারি বা বেসরকারি কনস্ট্রাকশন প্রজেক্টে ইন্টার্নশিপ বা প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে। সিভিল টেকনোলজির শিক্ষার্থীদের বাস্তব কাজের ধারণা দিতে বিভিন্ন ল্যাবরেটরিতে হাতে-কলমে কাজ শেখানো হয়: • সিভিল উড ও রাজমিস্ত্রি শপ: গাঁথুনি এবং কাঠের কাঠামোগত প্রাথমিক ধারণা। • সার্ভেইং শপ: লেভেলিং এবং থিওডোলাইট বা আধুনিক টোটাল স্টেশন (Total Station) দিয়ে মাঠ জরিপ। • টেস্টিং ল্যাব: সিমেন্ট, ইটের শক্তি পরীক্ষা এবং রডের টান সহ্য করার ক্ষমতা (Tensile Test) যাচাই করা। • ক্যাড (CAD) ল্যাব: কম্পিউটারে ডিজিটাল আর্কিটেকচারাল এবং স্ট্রাকচারাল ডিজাইন তৈরি। উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে বাংলাদেশে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারদের কর্মক্ষেত্র অনেক বড়। ডিপ্লোমা শেষ করে সরকারি ও বেসরকারি উভয় সেক্টরেই উপ-সহকারী প্রকৌশলী (Sub-Assistant Engineer) বা ১০ম গ্রেডের কর্মকর্তা হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু করা যায়। • সরকারি সেক্টর: এলজিইডি (LGED), পিডব্লিউডি (PWD), ওয়াসা (WASA), সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর (RHD), বাংলাদেশ রেলওয়ে, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (BWDB), বিআইডব্লিউটিএ (BIWTA) এবং বিভিন্ন সিটি কর্পোরেশন ও পৌরসভা। • বেসরকারি সেক্টর: দেশের নামকরা রিয়েল এস্টেট কোম্পানি (যেমন: আমিন মোহাম্মদ গ্রুপ, কনকর্ড, বিল্ডিং টেকনোলজি অ্যান্ড আইডিয়াস - bti ইত্যাদি) এবং বড় বড় ডেভেলপমেন্ট ফার্মে সাইট ইঞ্জিনিয়ার বা প্রজেক্ট ম্যানেজার হিসেবে। • মেগা প্রজেক্ট: চলমান বিভিন্ন মেগা প্রজেক্ট যেমন—মেট্রোরেল, এক্সপ্রেসওয়ে, বিভিন্ন টানেল ও ফ্লাইওভার নির্মাণ কাজে প্রচুর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের প্রয়োজন হয়। • কনসালটেন্সি ও ব্যবসা: অভিজ্ঞতার পর নিজে ড্রয়িং, ডিজাইন, এস্টিমেটিং এবং কনস্ট্রাকশন ফার্ম বা থ্রিডি থিম মেকিংয়ের ব্যবসা শুরু করা সম্ভব। ডিপ্লোমা ইন সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং শেষ করার পর একজন শিক্ষার্থী সহজেই বিএসসি (B.Sc) ডিগ্রি নিতে পারেন: • DUET (ডুয়েট): ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (DUET) থেকে সরাসরি বিএসসি ইন সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং করার সুযোগ রয়েছে, যা ডিপ্লোমা শিক্ষার্থীদের জন্য স্বপ্নের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। • অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়:IEB (Institution of Engineers, Bangladesh) অনুমোদিত বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সান্ধ্যকালীন বা রেগুলার শিফটে ৩ থেকে ৩.৫ বছরে B.Sc in Civil Engineering সম্পন্ন করা যায়।